মার্কিন প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে যা চেয়েছিল তা না পাওয়ায় বিএনপি চুপ করে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা (বিএনপি) আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায়, ওয়াশিংটনের কাছে যা চায় সে চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তারা শুনতে চেয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসবে অথবা ভিসানীতি প্রয়োগ হবে। এমন একটা স্বপ্ন নিয়েই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে গেছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধি দল যা বলে গেলেন তাতে বিএনপির আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। সরকারের পতন, সরকারের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এ ধরনের কিছু তারা মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে খুঁজে পায়নি। সে কারণে চুপ করে থাকার কৌশলটাই বেছে নিয়েছে।
সরকার নতুন করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ তোলেন। এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বাস্তবতা কতটা অসাড়, ফখরুল-খসরুসহ তাদের কত নেতাকর্মী মুক্তি পেয়েছে। এ সময় আবার মামলা দিচ্ছে বলে ওরা আসলে অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ছে। সরকারের বিরুদ্ধে বলার জন্য বলতে হবে, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে হবে, সে কারণে তারা এমন মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই তো জেলে ছিলেন। তাদের তো অনেক নেতাকর্মী মুক্তি পেল, নতুন করে কে অ্যারেস্ট হলো? তাহলে কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। মার্কিন প্রতিনিধিদল বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করেনি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে রাজনৈতিক কোনো ক্রাইসিস আছে? বিএনপির সঙ্গে কেন বৈঠক করেছে এটা তাদের জিজ্ঞেস করুন। তারা মূলত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এসেছিল। সেজন্য সে বৈঠক তো আর দলের সঙ্গে করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে, বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টার সঙ্গে, পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সরকারের সঙ্গে বৈঠক করার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
